চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি ওষুধের সংকট নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের অভিযোগ, ১ হাজার ৩০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু বরাদ্দ ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ক্যানোলা, ইনজেকশনসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব ঘাটতির কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
কর্মসূচি নিয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মুশফিকুর রহমান বলেন, নবজাতক বা ছোট শিশুর খিঁচুনি হলে দ্রুত ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের ভুল-বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, ফলে তারা বেকায়দায় পড়ছেন।
সংগঠনের সভাপতি ডা. শাহাদত মাহমুদ বলেন, হাসপাতালটি ১ হাজার ৩০০ শয্যার হলেও এখানে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। অথচ সরবরাহ করা হয় নির্ধারিত শয্যাসংখ্যার রোগীদের কথা বিবেচনা করে। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকট দেখা দেয়।
তিনি বলেন, রোগীরা আমাদের কাছ থেকে সেবা পাবেন, কিন্তু আজ আমাদের এই পরিস্থিতিতে আসতে হবে, তা কখনো কাম্য ছিল না। একজন রোগী স্যালাইন বা ক্যানুলা না পেলে কিংবা জরুরি ওষুধের অভাবে চিকিৎসা ব্যাহত হলে সেই ক্ষোভ চিকিৎসকদের ওপর এসে পড়ে। অথচ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা চিকিৎসকদের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
