যশোরে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, নতুন নিয়োগের দাবি জামায়াতের ৫ এমপির
যশোর প্রতিনিধি
যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সংসদ সদস্য। তাঁদের দাবি, সরকারি নীতিমালা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগ না দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় পছন্দের ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পাঁচ সংসদ সদস্যের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল।
বিবৃতিতে বলা হয়, যশোরের ১৩টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির নেতাদের সহযোগিতায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে দাবি করেন সংসদ সদস্যরা। এতে দীর্ঘদিনের সার ব্যবসায়ী এবং কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও সার ডিলার নির্বাচনে তাঁদের পরামর্শ ও সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের দাবি, জেলা প্রশাসক সরকারি দলের দেওয়া তালিকা চূড়ান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, নতুন ডিলারদের তালিকায় মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় আটক এক ব্যক্তির স্ত্রী, একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও এ বিষয়ে তাঁদের মতামত নেওয়া হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
এ পরিস্থিতিতে সার ডিলার নিয়োগের বর্তমান প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রকৃত যোগ্য ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাঁচ সংসদ সদস্য। তাঁদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ডিলার নির্বাচন করতে হবে।
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তৃপক্ষ কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য লিখিত বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
