আফগানিস্তানের কাছে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বাংলাদেশের বিদায়
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারায় শেষ ম্যাচেও পরাজয় এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। অন্যদিকে, এই জয়ের সুবাদে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। আগামী ২৩ অক্টোবর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে দলটি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৬০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৫.৩ ওভারেই জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। ম্যাচে রহমত শাহর অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস জয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল মূলত সম্মান রক্ষার লড়াই। তবে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে না পারায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে দলটি। ব্যাটিংয়ে প্রয়োজনীয় ধারাবাহিকতার অভাব এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে না পারার কারণে শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয় বাংলাদেশকে।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই প্রত্যাশা অনুযায়ী রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। উইকেটে থিতু হয়ে বড় ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে একের পর এক ব্যাটার ব্যর্থ হন। ফলে দলের রান বাড়ানোর গতি যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, তেমনি শেষ দিকে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগও কমে আসে।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন। তাঁর ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা লড়াই করার মতো অবস্থানে পৌঁছায়। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় বড় স্কোরের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি।
আফগানিস্তানের বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ ধরে রাখেন। বিশেষ করে রশিদ খানের কার্যকর বোলিংয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। চার উইকেট নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। তখন বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বোলাররা।
পরবর্তী সময়ে রহমত শাহ দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেন। পরিস্থিতি বুঝে খেলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন তিনি। তাঁর অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস আফগানিস্তানের রান তাড়াকে সহজ করে তোলে।
বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে সাফল্য পেলেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত উইকেট নিতে পারেননি। ফলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আফগানিস্তান ৩৫.৩ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে শুধু জয় পাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল না, ফাইনালে ওঠার সমীকরণও ছিল কঠিন। ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো। কিন্তু নির্ধারিত সেই সীমা অতিক্রম করার পরই বাংলাদেশের ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
আফগানিস্তান ১১৯ রান পার করে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য ছাড়া আর কোনো সমীকরণ অবশিষ্ট ছিল না। তবে ব্যাট হাতে ছোট সংগ্রহ দাঁড় করানোর পর বল হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাও সফল হয়নি।
বাংলাদেশকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফগানিস্তান। আগামী ২৩ অক্টোবর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। ফাইনালে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই জয় আফগানদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে না পারা এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের রান তাড়া থামাতে ব্যর্থ হওয়া—দুই দিকের দুর্বলতাই এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে।
পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যক্তিগত সাফল্যও দলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই হারের মধ্য দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হলো। এখন দলের সামনে নিজেদের ভুলগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও কার্যকর পারফরম্যান্স দেখানোর চ্যালেঞ্জ রয়ে গেল।
