ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়ের সুযোগে পকেটমারি ও মুঠোফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে। ট্রেনে ওঠানামার ব্যস্ত সময়ে মূল্যবান জিনিসপত্র হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে স্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, সিসিটিভি স্থাপন এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পীরগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী হরিপুর ও রাণীশংকৈল উপজেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম পীরগঞ্জ রেলস্টেশন। প্রতিদিন এ স্টেশন দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর ও পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন।
নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর পর ওঠানামার সময় প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। এ সুযোগে পকেটমার ও চোরচক্র যাত্রীদের মানিব্যাগ, মুঠোফোন ও হাতব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ভিড়ের কারণে অনেক সময় যাত্রীরা ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতেও পারেন না।
সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন হারানোর ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, মুঠোফোনটি হারানোর পর নিজের নম্বরে কল করলে অপর প্রান্ত থেকে ফোন ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পীরগঞ্জ রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করলেও নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় দুর্বল। বিশেষ করে ট্রেন আসা-যাওয়ার ব্যস্ত সময়ে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ছাড়া স্টেশনে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি যাত্রীদের। তাঁদের মতে, কার্যকর সিসিটিভি ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী ও নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা গেলে স্টেশনকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাঝে মধ্যে চোর সন্দেহে কাউকে আটক করা হলেও তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে মারধর করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইন নিজের হাতে না তুলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নূর ইসলাম নোবেল বলেন, “পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (RNB) একটি বুথ স্থাপন করা প্রয়োজন। এতে যাত্রীরা দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা পাবেন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।”
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, “স্টেশনে চুরি-ছিনতাইয়ের বিষয়টি মূলত জিআরপি পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত।”
পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার জনতা রাণী রায় বলেন, “যাত্রীদের সতর্ক থাকার জন্য মাইকে নিয়মিত সতর্কতামূলক ঘোষণা দেওয়া হয়। যাত্রীদেরও নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
নিয়মিত যাত্রীদের দাবি, স্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে পকেটমারি ও চুরির ঘটনা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রেন আসা-যাওয়ার ব্যস্ত সময়ে নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি স্থাপন এবং অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা চান তাঁরা।
