পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৬ নম্বর দৈহারী ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামে বাবুল ফকিরের বাড়িসংলগ্ন একটি লোহার পুল দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুলটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। এর ওপর নির্ভর করে আশপাশের এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, দৈহারী জামে মসজিদের মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুলটির পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। লোহার কাঠামোয় মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পাটাতন ভেঙে রড বেরিয়ে থাকায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলটির দুরবস্থার বিষয়টি একাধিকবার দুই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। এলাকার যুবসমাজও বারবার সংস্কারের দাবি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাসের পর আশ্বাস পেলেও পুলটির সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলটির পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ভাঙা এবং বেরিয়ে থাকা লোহার রড দিয়ে যাতায়াতকারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, এই পুল দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। তাঁদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীও রয়েছে। পুলটির বর্তমান অবস্থা দেখে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা হচ্ছে। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পুলটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ হলেও তাঁদের এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ পুলটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা ছাড়া তাঁদের সামনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।
এ অবস্থায় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভরতকাঠি গ্রামের বাবুল ফকিরের বাড়িসংলগ্ন লোহার পুলটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
