শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামে সরকারি খাল পুনঃখননের দুই মাসের মধ্যেই সেটি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। খালের বিভিন্ন অংশে নেটপাটা বসিয়ে সাত ভাগে বিভক্ত করে দখলে রাখার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে খালের পানি ব্যবহার করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে খালপাড়ের দুই হাজার বিঘারও বেশি ফসলি জমিতে বোরো আবাদ।
স্থানীয়দের দাবি, খালটি দখলমুক্ত না করায় তাঁরা গৃহস্থালির কাজ ও খাবার পানির জন্যও সংকটে পড়েছেন। খালের পানি ব্যবহার করতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলেখালি গ্রামের প্রায় ৯০ বিঘা আয়তনের খালটির ২ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৭৪ লাখ টাকা। বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস (CNRS) প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খালটি পুনঃখনন করে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় খালটি দখলের অভিযোগ ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের দুই পাশে দুই হাজার বিঘারও বেশি ফসলি জমি রয়েছে। বোরো মৌসুমে এসব জমিতে সেচের জন্য খালের পানি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দারা দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজেও এ পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কথিত দখলদারদের বাধায় তাঁরা খালের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, খাল দখলের প্রতিবাদ করায় তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফোনে এবং সরাসরি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের। এতে পানির সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
খালটি দখলমুক্ত করার দাবিতে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ উদ্যোগের পর থেকে তাঁকেও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, খাল দখলের অভিযোগ ইতিমধ্যে তাঁর নজরে এসেছে। খালটি দখলমুক্ত করতে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্যামনগরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে জনস্বার্থে পুনঃখনন করা খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করে সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। তাঁদের মতে, খালটি উন্মুক্ত থাকলে কৃষিকাজে পানির সংকট কমবে এবং গ্রামের মানুষও দৈনন্দিন প্রয়োজনে পানি ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাবেন।
