নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সংকুচিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকা। আগে ভাতের সঙ্গে মাছ, ডাল, সবজি কিংবা মাংসের একাধিক পদ রাখার চেষ্টা করতেন যেসব পরিবার, তাদের অনেকেই এখন খরচ সামলাতে একটি তরকারি দিয়েই খাবার শেষ করছেন। সীমিত আয়ের মানুষের কাছে মাংস কিংবা মাছ এখন অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত খাবার না থেকে বিশেষ দিনের আয়োজনে পরিণত হয়েছে।
চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ ও মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয়। কিন্তু অনেক পরিবারের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন করে কাটছাঁট করতে হচ্ছে খরচের তালিকা।
একসময় পরিবারের সদস্যদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার রান্নার পরিকল্পনা করা হতো। এখন অনেকের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয় কোন পণ্যটি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। কোনো দিন মাছ থাকলে পরদিন হয়তো শুধু সবজি, আবার কোনো দিন ডাল ও ভর্তা দিয়েই সারতে হচ্ছে দুপুর কিংবা রাতের খাবার। এভাবেই খাবারের বৈচিত্র্য কমিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন বহু পরিবার।
বিশেষ করে দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এই চাপ বেশি পড়ছে। আয়ের বড় অংশ খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেই ব্যয় হয়ে যাওয়ায় সঞ্চয়ের সুযোগ কমছে। মাসের শেষ দিকে অনেক পরিবারকে আরও হিসাব করে চলতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে বাড়তি খরচ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাজার করতে গিয়ে ক্রেতাদের অনেকেই আগের তুলনায় কম পণ্য কেনার কথা জানাচ্ছেন। একই পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও প্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। ফলে পরিবারের খাবারের তালিকা তৈরির সময় পছন্দের চেয়ে দামকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে পরিবারের পুষ্টির ওপরও। খরচ কমাতে মাছ, মাংস, ডিম, দুধসহ পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের বেড়ে ওঠা এবং পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাও জরুরি বলে মনে করছেন ভোক্তারা।
কারণ, সংসারের ব্যয় বাড়লেও আয় না বাড়লে তার চাপ শেষ পর্যন্ত পড়ে খাবারের থালায়। একাধিক পদ বাদ দিয়ে একটি তরকারিতে সীমাবদ্ধ হওয়া কেবল খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন নয়; এটি অনেক পরিবারের আর্থিক সংকটেরও চিত্র।
নিত্যপণ্যের দামের চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে খাবার পৌঁছে দেওয়াই এখন বড় প্রত্যাশা। যাতে পরিবারের সদস্যদের পুষ্টির সঙ্গে আপস করতে না হয় এবং প্রতিদিনের খাবারের আয়োজন করতে গিয়ে মানুষকে সামর্থ্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে না হয়।
