চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে জাল স্বাক্ষরে ভর্তি ও নিয়োগের অভিযোগ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিফট পরিবর্তন ও নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহাজামাল শেখ (৪০) নামে এক অফিস সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সাহাজামাল শেখকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় করা মামলাটির নম্বর ১৬, বার্ষিক নম্বর ২৯৮।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন শেখ রেজাউল করিম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অফিস সহকারী সাহাজামাল শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানতে পারেন।
এজাহারে বলা হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিদ্যালয়টি আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অফিস সহকারী সাহাজামালের অফিস ও ডরমেটরি কক্ষে যান এবং তাঁর ব্যবহৃত কম্পিউটার সম্পর্কে জানতে চান।
অভিযোগ অনুযায়ী, কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন ফাইল পরীক্ষা করে সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের স্ক্যান করা স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এসব স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অফিস সহকারী বিভিন্ন অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিফট পরিবর্তন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতারণা করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এ ছাড়া অফিসকক্ষ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের চারটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
বিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীর শূন্য আসনে অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে এফিডেভিট ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতি শিফটের ‘ক’ ও ‘খ’ শাখায় ১৬ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে আরও একজন শিক্ষার্থীকে অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করানো হয়েছে। এসব ভর্তি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাহাজামাল শেখের নিয়োগসংক্রান্ত একটি নিয়োগপত্র ও ২০১৬ সালের ৪ জুলাই তারিখের একটি যোগদানপত্র পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নথির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মামলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহাঃ শাহজাহান আলী ও মো. ইমন আলীকে সাক্ষী করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সাহাজামাল শেখ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, মামলা পাওয়ার পর অভিযুক্ত অফিস সহকারী সাহাজামাল শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
