মোবাস্বির হোসাইন (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নতুন বাইপাস এলাকায় ৩৫ বস্তাভর্তি ঘোড়ার হাড়গোড়, চামড়া, নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন দেহাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা এসব বস্তা সেখানে ফেলে রেখে গেছে বলে জানা গেছে। তবে কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এসব দেহাবশেষ সেখানে ফেলেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদি এসব দেহাবশেষ ঘোড়ার হয়ে থাকে, তাহলে প্রাণীগুলোর মাংস কোথায় গেল? সেই মাংস কি কোথাও বিক্রি করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে? বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বিশেষ করে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে কাচ্চি বিরিয়ানি, তেহারি ও অন্যান্য মাংসের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের খাদ্যের উৎস ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের সঙ্গে কোনো রেস্টুরেন্টের সম্পৃক্ততা কিংবা ঘোড়ার মাংস বিক্রির কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার দাবি উঠেছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের উৎস, এগুলো সেখানে কীভাবে এল এবং কোনো অবৈধভাবে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ বা বিক্রির ঘটনা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাংসের উৎস, সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এখন প্রশ্ন একটাই—৩৫ বস্তা ঘোড়ার দেহাবশেষের উৎস কী, আর এর সঙ্গে মাংসের কোনো বাণিজ্যিক যোগসূত্র রয়েছে কি না?
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে সচেতন মহল।
