স্টাফ রিপোর্টার:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, বিদ্যালয় পরিচালনা ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিরোধ, হাতাহাতি এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিজস্ব বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের মাধ্যমে তৈরি না করে বাইরে থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা নাসিমা ফেরদৌস জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশ্নপত্র তিনি নিজে তৈরি করেননি। প্রধান শিক্ষক কোথা থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশ্নপত্র সম্পর্কে সাংবাদিকদের কেউ জানতে চাইলে সেটি নিজে তৈরি করেছেন বলে জানাতে তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক।
এ ঘটনায় প্রশ্নপত্র প্রণয়নের স্বচ্ছতা ও পরীক্ষার গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহের বিষয়টি কোন নিয়ম বা নির্দেশনার লঙ্ঘন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ বিষয়ে শিক্ষকদের মতামত নেওয়া কিংবা তাঁদের কাছে যথাযথ জবাবদিহি করার প্রবণতা নেই। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্বাস আলীর মনোনয়ন ও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি খুলনার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পূর্ণকালীন চাকরি করেন এবং পরিবারসহ সেখানেই বসবাস করেন। এমন পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন ও নিয়মিত তদারকির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সভাপতি আব্বাস আলী ও প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাবেই ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও পরিচালনায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে সভাপতির মনোনয়ন প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন সংবাদকর্মীরা। তবে তাঁর পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্বাস আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা এসেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখেন। আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। প্রধান শিক্ষক যদি আইন অমান্য করে থাকেন, তবে আমি তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
